• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি

ইনুর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে দলে ভাঙন: বাদল

বাদলঢাকা: হাসানুল হক ইনু নেতৃত্বাধীন জাসদ থেকে বেরিয়ে আসা মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেছেন, মন্ত্রী হওয়ার পর দলীয় প্রধান ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এটা হয়েছে।

জাসদ সভাপতি ইনুর আর্থিক সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সদ্য দলছুট এই নেতা।

জাতীয় সংসদ ভবনে রবিবার নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাদল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার পর আর্থিক বিষয়ে উনার (ইনু) আচরণ সম্পর্কে দলে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে অস্পষ্টতা আছে, অস্বচ্ছতা আছে। দলীয় সভাপতি ব্যক্তিগত রাগ-অনুরাগ,ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তিনি তাই নিয়েছেন।’

‘আমাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তিনি ছয় বছর আমাদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে কোনো কাজ করতে দেন নাই; বাধা সৃষ্টি করেছেন,’ বলেন বাদল।

জাসদে আকস্মিক এই ভাঙনও হয়েছে কাউন্সিলে নতুন সাধারণ সম্পাদক কে হবেন তা নিয়ে। ওই পদে স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ শিরিন আক্তারের নাম প্রস্তাব হলে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আরেক সাংসদ নাজমুল হক প্রধানের নাম আসে।

এ নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে এসে জাসদের নামে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে সভাপতি ও প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। অপরদিকে হাসানুল হক ইনু ও শিরিন আক্তারের নেতৃত্বে জাসদের নতুন কমিটি হয়েছে।

বিদ্রোহী কমিটিতে কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া বাদলের দাবি, দশম সংসদে দল থেকে যে ছয়জন সাংসদ আছেন তাদের চারজনই তাদের সঙ্গে। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির ১৪ সদস্যের ১০ জনই বেরিয়ে এসেছেন।

ইনু নেতৃত্বাধীন জাসদের কার্যকরী সভাপতি বাদল বলেন, ‘আমরা দল ভাঙিনি,ভাঙতে চাইনি,ভাঙার কোনো পরিকল্পনা আমাদের ছিল না। এই ভাঙন কমিটির সাথে আচরণ এবং দীর্ঘ দিনের জমে থাকা ক্রোধের বিস্ফোরণ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত ছিল সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কার্যকরী সভাপতি একবারের বেশি স্বপদে থাকতে পারবেন না। সে একবারের বদলে আমরা তিনবার (ইনুর সভাপতিত্ব) পার করে দিয়েছি।’

‘আমাদের দলে কথা উঠেছিল, দলের কেউ যদি নির্বাহী দায়িত্ব গ্রহণ করেন তবে তিনি দলের পদে থাকতে পারবেন না। যে কোনো একটি দায়িত্ব রাখতে পারবেন।’

‘আমাদের ক্ষেত্রে এই দুটি বিষয়ে আলোচনা করে হাসানুল হক ইনুকে কাউন্সিলররা সুযোগ দিয়েছে। উনি সভাপতি ও মন্ত্রী দুটোই থাকতে পারবেন,’ জানান তিনি।

তবে ইনুর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া থেকে সমস্যার সৃষ্টি বলে মন্তব্য করে বাদল বলেন, ‘আপনার (ইনু) সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকতে পারে, অনুরাগ থাকতে পারে, সবকিছুই থাকতে পারে। সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়।কিন্তু সেখানে আমরা লক্ষ্য করলাম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিরিন আক্তারের নাম প্রস্তাব করা হল। এটা আসতেও পারে। তার নাম প্রস্তাব করার পর সমর্থন করা হয়েছে। সেটাও হতে পারে। কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে কেউ বললো পাস পাস, শিরিন আক্তার পাস। সেটাও হতে পারে।’

‘কিন্তু আপনার (ইনু) অনুগ্রহপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার বলতে পারে না, পাস হয়ে গেছে।’

কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে আসার কারণ ব্যাখ্যায় বাদল বলেন, ‘আমাদের দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাজমুল হক প্রধানের নাম প্রস্তাব করেন। তখন অনেক কাউন্সিলরও সমর্থন করেছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন বলল- আপনারা ১ ঘণ্টার সময় দিন, খাওয়া-দাওয়া করেন আমরা গোপন ব্যালটের প্রস্তাব করছি। তারা (নির্বাচন কমিশন) যখন এই কথা বলছে,তখন পেশি শক্তি গ্রুপ শ্লোগান দিচ্ছে- ‘ইনু-শিরিন এগিয়ে চলো,আমরা আছি তোমার সাথে’, ‘শিরিন পাস হয়ে গেছে’।

‘নাজমুল হক প্রধান কথা বলার সুযোগ চেয়েছেন,তখন নির্বাচন কমিশন বলল- আপনি এখন কথা বলতে পারবেন না। নাজমুল হক প্রধান সভাপতি ইনুর কাছে কথা বলার সুযোগ চেয়ে বলেছেন,আপনি আমাকে কথা বলতে না দিলে আমি চলে যাব। তারপরও তিনি তাকিয়ে দেখেছেন,কিছুই বলেননি।’

‘আমরা তাকে (ইনু) বার বার বলেছি,সম্মেলনে কাউন্সিলরদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করতে দিন। কাউন্সিলরদের রায় আমরা নত চিত্তে মেনে নেওয়ার কথাও বলেছি। কিন্তু আপনার (ইনু) হঠকারী কর্মকাণ্ড, তথাকথিত মন্ত্রিত্বের ঔধ্বত্যের কারণে কাউন্সিল ধ্বংস হয়েছে। এর উত্তর উনাকেই (ইনু) দিতে হবে। ভাঙতে চাইনি, ভাঙন কাঁধের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তবে এই ভাঙনে জাসদ হারিয়ে যাবে না বলে মনে করেন এর আগেও একবার দল থেকে বেরিয়ে ফিরে আসা বাদল।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই দলটি যতবার ভেঙেছে ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।’

একই নামে তারাও ১৪ দলে থাকবেন বলে জানান তিনি।

দলীয় কার্যালয় নিয়ে বাদল বলেন, আপাতত তাদের কোনো নির্দিষ্ট অফিস নেই। জাসদের যে অফিসটি রয়েছে তা চারজনের নামে। এরমধ্যে একজন কাজী আরেফ আহমেদ মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন হাসানুল হক ইনু।

‘বাকী দুইজন আমাদের সঙ্গে আছে। এটা আইনি বিষয় এই বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধানসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ